2026 সালের উৎসব পঞ্জিকা

বিপত্তারিণী পূজা ২০২৬ - Bipadtarini Puja 2026

১ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার)

তারিখ ও পঞ্জিকার বিবরণ

বিপত্তারিণী পূজা
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার)
তিথি: চতুর্থী - 08:20 AM পর্যন্ত
বিপত্তারিণী পূজা
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
২১ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার)
তিথি: সপ্তমী - 07:00 AM পর্যন্ত

বিপত্তারিণী পূজা ২০২৬ কত তারিখে? (Bipadtarini Puja 2026 Date)

মা দুর্গার ১০৮টি অবতারের মধ্যে অন্যতম একটি রূপ হলো দেবী বিপত্তারিণী (Bipadtarini)। হিন্দু ধর্মে বিপত্তারিণী ব্রতের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হিন্দু বাঙালিরা অত্যন্ত ভক্তিভরে এই দেবীর আরাধনা করেন। প্রথা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের রথযাত্রা এবং উল্টো রথের মধ্যবর্তী মঙ্গলবার এবং শনিবার এই ব্রত পালন করা হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে (১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) বিপত্তারিণী ব্রত পালন করা হবে আগামী ১৮ জুলাই (শনিবার) এবং ২১ জুলাই (মঙ্গলবার)

বিপত্তারিণী পূজায় ১৩ সংখ্যার মাহাত্ম্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী

বিপত্তারিণী পূজায় ১৩ সংখ্যার একটি বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, দেবীকে সবকিছু ১৩টি করে উৎসর্গ করলে তিনি সন্তুষ্ট হন। পূজার জন্য ঘট, আমের পল্লব, ডাব এবং নৈবেদ্য তো লাগেই, তবে পাশাপাশি ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো হাতে বাঁধা হয়। এই সুতোয় ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা থাকে। এছাড়া ১৩ রকমের ফল, ১৩টি ফুল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি পান এবং ১৩টি সুপারি দেবীর চরণে অর্পণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পূজার এই লাল সুতো ১৩ দিন হাতে বেঁধে রাখা বাধ্যতামূলক (মেয়েদের বাম হাতে এবং ছেলেদের ডান হাতে)।

বিপত্তারিণী ব্রত পালনের সঠিক নিয়ম (Rules of Bipadtarini Vrata)

বিপত্তারিণী ব্রত পালন করতে গেলে কিছু নিয়ম নিষ্ঠাভরে মেনে চলতে হয়:

  • ব্রতের আগের দিন নিরামিষ বা সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করতে হয়।
  • পূজার দিন উপবাস করে নিষ্ঠা সহকারে মা বিপত্তারিণীর পূজা করতে হয়।
  • পূজা শেষে প্রসাদ হিসেবে ১৩টি লুচি এবং ১৩ রকমের ফল অর্পণ করতে হয়।
  • পূজা চলাকালীন কারো সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়।
  • এই দিন কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা চিনি দান করা অশুভ বলে মনে করা হয়।

ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে দেবী বিপত্তারিণী পরিবারের সকল সদস্যকে বিপদ ও সংকট থেকে রক্ষা করেন এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।

মা বিপত্তারিণীর পৌরাণিক কাহিনী (Mythological Story)

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, একবার বাঁকুড়ার মল্লরাজ্যের রাণী এক মুচির স্ত্রীকে গোমাংস ভক্ষণ করতে দেখেছিলেন। কৌতূহলবশত রাণী তা খেতে চাইলে রাজা বিষয়টি জেনে ফেলেন এবং রাগান্বিত হয়ে রাণীর ঘরে প্রবেশ করেন। রাণী ভয়ে সেই মাংস কাপড়ে লুকিয়ে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন, 'মা আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করো'। রাজা রাণীর কাপড় পরীক্ষা করলে দেখতে পান সেখানে গোমাংসের বদলে রয়েছে সুন্দর একটি লাল জবা ফুল। এই ঘটনার পর থেকেই দেবীর নাম হয় বিপত্তারিণী এবং রাণীর হাত ধরেই প্রথম বিপত্তারিণী ব্রতের প্রচলন হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQs)

২০২৬ সালে বিপত্তারিণী পূজা কবে? (When is Bipadtarini Puja in 2026?)

২০২৬ সালে বিপত্তারিণী পূজা ১৮ই জুলাই (শনিবার) এবং ২১শে জুলাই (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হবে।

বিপত্তারিণী পূজায় কয়টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো বাঁধতে হয়?

বিপত্তারিণী পূজায় ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো হাতে বাঁধতে হয়, এবং এটি ১৩ দিন হাতে রাখা বাধ্যতামূলক। পুরুষদের ডান হাতে এবং মহিলাদের বাম হাতে এই সুতো পরতে হয়।

বিপত্তারিণী ব্রত কোন সময়ে পালন করা হয়?

রথযাত্রা এবং উল্টো রথের মধ্যবর্তী মঙ্গলবার এবং শনিবার বিপত্তারিণী ব্রত পালন করা হয়।