২৮ কার্তিক ১৪৩৩
১৫ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার)
প্রকৃতির আরাধনার এক অনন্য উৎসব হলো ‘ছট পূজা’ (Chhat Puja)। মূলত বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের প্রধান উৎসব হলেও বর্তমানে এটি পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়। এই উৎসবে প্রত্যক্ষ দেবতা সূর্যদেব এবং তাঁর পত্নী ঊষা (ছঠি মাইয়া)-র আরাধনা করা হয়। ২০২৬ সালে ছট পূজা পালিত হবে ১৫ই ও ১৬ই নভেম্বর। হিন্দু ধর্মমতে, সূর্য হলেন জীবনীশক্তির উৎস, তাই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং পরিবারের সমৃদ্ধি কামনায় এই কঠিন ব্রত পালন করা হয়। এটি এমন এক উৎসব যেখানে কোনো মূর্তিপূজা নয়, বরং প্রকৃতির সরাসরি পূজা করা হয়।
২০২৬ সালের ছট পূজার সঠিক সময়সূচী ও অর্ঘ্য প্রদানের সময় (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই চার দিনব্যাপী ব্রতের শেষ দু’দিন নদীর ঘাটে গিয়ে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়।
ছট পূজা অত্যন্ত কঠিন ও পবিত্র একটি ব্রত। ব্রতীরা টানা ৩৬ ঘণ্টা নির্জলা উপবাস পালন করেন। ১৫ই নভেম্বর বিকেলে নদীর তীরে গিয়ে অস্তগামী সূর্যকে (Samyak Arghya) পূজা দেওয়া হয়। এরপর পরদিন ১৬ই নভেম্বর ভোরে উদীয়মান সূর্যকে (Usha Arghya) অর্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে ব্রত সম্পন্ন হয়। পূজার উপকরণের মধ্যে থাকে ঠেকুয়া (Thekua), ঋতুভিত্তিক ফল, নারকেল এবং আখ। বাঁশের ডালিতে এই অর্ঘ্য সাজিয়ে নদী বা জলাশয়ে হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে পূজা করার দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম ও ভক্তিমূলক।
ছট পূজা আমাদের পরিবেশ সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতার পাঠ দেয়। নদীর ঘাট পরিষ্কার করা এবং প্রকৃতির কোলে দেবতাকে খুঁজে পাওয়া এই উৎসবের বিশেষত্ব। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক সংহতি এবং ভক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ছঠি মাইয়ার আশীর্বাদে ভক্তদের সমস্ত মনোকামনা পূর্ণ হয় বলে লোকবিশ্বাস রয়েছে।