৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩
২০ নভেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার)
কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীকে ‘দেবুত্থান একাদশী’ (Devutthana Ekadashi) বা ‘প্রবোধিনী একাদশী’ বলা হয়। হিন্দু ধর্মমতে, এই দিনেই ভগবান শ্রীবিষ্ণু দীর্ঘ চার মাসের যোগনিদ্রা (Chaturmas) কাটিয়ে জেগে ওঠেন। ২০২৬ সালে দেবুত্থান একাদশী পালিত হবে ২০শে নভেম্বর, শুক্রবার। এই দিনটি অত্যন্ত শুভ এবং এর মাধ্যমেই চাতুর্মাস ব্রত শেষ হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিন থেকে সমস্ত রকম মাঙ্গলিক কাজ যেমন বিবাহ, গৃহপ্রবেশ এবং অন্নপ্রাশন পুনরায় শুরু করা যায়। এটি ভক্তদের জন্য পরম আনন্দের ও আধ্যাত্মিক জাগরণের দিন।
২০২৬ সালের দেবুত্থান একাদশীর সঠিক সময়সূচী ও পারণ সময় (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট পারণ সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা শাস্ত্রীয় বিধান।
দেবুত্থান একাদশীর অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো ‘তুলসী বিবাহ’ (Tulsi Vivah)। এই দিন তুলসী গাছকে সাজিয়ে ভগবান শালগ্রাম বা কৃষ্ণের সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। প্রথা অনুসারে, এদিন সন্ধ্যায় বাড়ির আঙিনায় বা মন্দিরে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং শঙ্খ বাজিয়ে ভগবান বিষ্ণুকে জাগিয়ে তোলা হয়। ভক্তরা দিনভর উপবাস থেকে শ্রীহরির আরাধনা করেন। এই ব্রত পালন করলে হাজার হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান ফল পাওয়া যায় বলে পুরাণ বর্ণীত রয়েছে। এটি মনের অন্ধকার দূর করে সত্যের আলোয় ফেরার এক পবিত্র অঙ্গীকার।
দেবুত্থান একাদশীর মাধ্যমে শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত চলা চাতুর্মাস ব্রত শেষ হয়। এই চার মাস মাঙ্গলিক কাজ বন্ধ থাকে। দেবুত্থান একাদশীর পর থেকেই সমাজে আবার খুশির আমেজ ফিরে আসে এবং নতুন নতুন উৎসব ও অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়। এটি আমাদের জীবনে নবপ্রাণের সঞ্চার করে এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে নতুন পথ চলার শক্তি দেয়।