১০ ভাদ্র ১৪৩২
২৭ আগস্ট ২০২৫ (বুধবার)
হিন্দু ধর্মমতে বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা ভগবান গণেশের জন্মোৎসব হলো ‘গণেশ চতুর্থী’ (Ganesh Chaturthi) বা ‘বিনায়ক চতুর্থী’। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে এই উৎসব মহাসমারোহে পালিত হয়। ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ই সেপ্টেম্বর, সোমবার। যে কোনও শুভ কাজের আগে গণেশ পূজা করা আবশ্যিক বলে মনে করা হয়, কারণ তিনি সমস্ত বাধা দূর করেন। এই উৎসব মূলত মহারাষ্ট্রে বিশাল আকারে শুরু হলেও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা ভারতে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বাস করা হয় যে, ভক্তিভরে গণেশ আরাধনা করলে পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর সঠিক সময়সূচী ও চতুর্থী তিথি (Bengali Calendar ১৪৩২) নিচে দেওয়া হলো:
এই শুভ সময়ের মধ্যে গণেশ বন্দনা ও ভোগ নিবেদন করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে বিবেচিত হয়।
গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে ভক্তরা গণেশ মূর্তিকে বাড়িতে বা মণ্ডপে এনে স্থাপন করেন (Murti Sthapana)। লাল ফুল, চন্দন এবং গণেশের অত্যন্ত প্রিয় ‘মোদক’ (Modak) ও লাড্ডু দিয়ে পূজা করা হয়। অনেকে এই দিন ‘গণেশ স্তোত্র’ বা ‘গণেশ অথর্বশীর্ষ’ পাঠ করেন। পূজা শেষে আরতি এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ১০ দিন ধরে এই উৎসব চলার পর অত্যন্ত ঘটা করে প্রতিমা বিসর্জন (Anant Chaturdashi) দেওয়া হয়। তবে অনেক বাড়িতে ১.৫ দিন, ৩ দিন বা ৫ দিন পর্যন্তও পূজা করা হয়।
গণেশের বড় কান আমাদের ভালো শ্রোতা হওয়ার শিক্ষা দেয়, আর তাঁর বড় মাথা বিশাল জ্ঞানের প্রতীক। তাঁর বাহন ইঁদুর এই বার্তা দেয় যে, বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে ছোট বিষয়কেও গুরুত্ব দিতে হয়। গণেশ চতুর্থী আমাদের নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার প্রেরণা দেয় এবং সমাজে ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় করে।