২৫ আষাঢ় ১৪৩২
১০ জুলাই ২০২৫ (বৃহস্পতিবার)
হিন্দু, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘গুরু পূর্ণিমা’ (Guru Purnima) একটি অত্যন্ত পবিত্র দিন। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উৎসব পালিত হয়। ২০২৬ সালে গুরু পূর্ণিমা পালিত হবে ২৯শে জুলাই, বুধবার। প্রাচীনকাল থেকেই গুরুকে ঈশ্বরের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। মনে করা হয়, এই পুণ্য তিথিতেই মহাভারতের রচয়িতা এবং আদি গুরু মহর্ষি বেদব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই একে ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ (Vyasa Purnima) নামেও ডাকা হয়। গুরুর দেওয়া জ্ঞানই জীবনের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়, আর সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো গুরু পূর্ণিমা।
২০২৬ সালের গুরু পূর্ণিমার সঠিক সময়সূচী (Bengali Calendar ১৪৩২) নিচে দেওয়া হলো:
পূর্ণিমা তিথি চলাকালীন গুরুর আশীর্বাদ গ্রহণ করা এবং দান-ধ্যান করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
গুরু পূর্ণিমার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পবিত্র বস্ত্র পরিধান করা উচিত। এরপর বাড়িতে বা মন্দিরে গুরুর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়। অনেক ভক্ত এই দিন উপবাস পালন করেন এবং গুরুর নির্দেশিত মন্ত্র বা শ্রী বিষ্ণু সহস্রনাম জপ করেন। মন্দির ও আশ্রমে এই দিন বিশেষ ভজন ও কীর্তনের আয়োজন করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই দিনটি বিশেষ, কারণ মনে করা হয় ভগবান বুদ্ধ বোধি লাভ করার পর সারনাথে এই দিনেই তাঁর প্রথম উপদেশ দিয়েছিলেন। আধুনিক যুগে ছাত্রছাত্রীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এই দিনটি পালন করে।
মহর্ষি বেদব্যাস চারটি বেদ সংকলন করেছিলেন এবং মহাভারত ও ১৮টি পুরাণ রচনা করেছিলেন। তিনি হলেন হিন্দু ধর্মের আদি গুরু। তাই তাঁর জন্মতিথিতে গুরু পূজা করার অর্থ হলো সকল জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। এটি আমাদের জীবনে শৃঙ্খলার গুরুত্ব এবং গুরুর পথপ্রদর্শনের আবশ্যকতাকে মনে করিয়ে দেয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, 'গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু দেব মহেশ্বরঃ', অর্থাৎ গুরুই হলেন পরব্রহ্ম।