এই বছর উক্ত উৎসবের তারিখ পাওয়া যায়নি।
১৮৫৫ সালের ৩০শে জুন ব্রিটিশ শাসন এবং মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনজাতির বীর সেনানীরা যে লড়াই শুরু করেছিলেন, তাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ‘হুল দিবস’ (Hul Diwas) পালিত হয়। ‘হুল’ শব্দের অর্থ হলো ‘বিদ্রোহ’। ২০২৬ সালে হুল দিবস পালিত হবে ৩০শে জুন, মঙ্গলবার। এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা ব্রিটিশদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।
১৮৫৫ সালে আজকের ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় সিধু মুর্মু এবং কানহু মুর্মুর নেতৃত্বে হাজার হাজার সাঁওতাল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেন। এই বিদ্রোহ মূলত জমি রক্ষা এবং জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিল। এই লড়াইয়ে সিধু ও কানহুর পাশাপাশি চাঁদ ও ভৈরব এবং তাঁদের বোন ফুলো ও ঝানো মুর্মুও অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। ব্রিটিশদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে তীর-ধনুক নিয়ে বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন এই অমর শহীদেরা।
২০২৬ সালের ৩০শে জুন (Bengali Calendar ) পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার বিভিন্ন আদিবাসী প্রধান এলাকায় শ্রদ্ধাভরে এই দিনটি পালন করা হবে। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষজন সিধু-কানহুর মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানের মাধ্যমে তাঁদের বীরত্বকে স্মরণ করেন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানেও এই মহান বিদ্রোহের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ঠিক আগের এক বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এই হুল বা বিদ্রোহই প্রমাণ করেছিল যে, সাধারণ মানুষ একত্রিত হলে যে কোনও শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব। হুল দিবস আমাদের আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার শিক্ষা দেয়।