১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
৬ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার)
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে ‘ইন্দিরা একাদশী’ (Indira Ekadashi) বলা হয়। পিতৃপক্ষের (Pitru Paksha) মধ্যে এই একাদশী পড়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। হিন্দু ধর্মমতে, এই ব্রত পালন করলে শুধুমাত্র নিজের পাপ ক্ষয় হয় না, বরং মৃত পূর্বপুরুষ বা পিতৃপুরুষদের নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়ে মোক্ষ লাভের পথ প্রশস্ত করা যায়। ২০২৬ সালে ইন্দিরা একাদশী পালিত হবে ৬ই অক্টোবর, মঙ্গলবার। যারা কোনো কারণে পিতৃপুরুষদের শ্রাদ্ধ করতে পারেন না, তারা এই ইন্দিরা একাদশী নিষ্ঠাভরে পালন করলে শ্রাদ্ধের সমান ফল লাভ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
২০২৬ সালের ইন্দিরা একাদশী পালনের সঠিক সময়সূচী ও পারণ সময় (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট পারণ সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা বা অন্ন গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।
ইন্দিরা একাদশীর দিন ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে ভগবান শালগ্রাম বা বিষ্ণুর পূজা করা হয়। এই দিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ বা শ্রাদ্ধ করা অত্যন্ত শুভ। দিনভর উপবাস থেকে ভগবান শ্রীহরির আরাধনা এবং রাত্রি জাগরণ করার বিধান রয়েছে। পরদিন দ্বাদশীর সকালে নির্দিষ্ট সময়ে পারণ (Parana) করে ব্রত সম্পন্ন করতে হয়। এই দিন অন্ন গ্রহণ নিষিদ্ধ এবং মনে প্রফুল্লতা বজায় রেখে হরিনাম সংকীর্তন করা অত্যন্ত ফলদায়ক। শাস্ত্রমতে, এই একাদশী পালনের মাধ্যমে মৃত পরিজনদের পারলৌকিক শান্তি কামনায় দান-ধ্যান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুরাণ অনুসারে, মাহীষ্মতী নগরের রাজা ইন্দ্রসেন তাঁর পিতার মুক্তির জন্য দেবর্ষি নারদের পরামর্শে এই ইন্দিরা একাদশী পালন করেছিলেন। তাঁর এই পুণ্য ফলেই তাঁর পিতা যমলোক থেকে মুক্তি পেয়ে বৈকুণ্ঠ ধামে স্থান পেয়েছিলেন। সেই থেকেই পূর্বপুরুষদের কল্যাণের জন্য এই একাদশী পালনের রীতি চলে আসছে। এটি আমাদের পিতৃভক্তি এবং পারলৌকিক কল্যাণের কথা মনে করিয়ে দেয়।