১ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩
১৮ নভেম্বর ২০২৬ (বুধবার)
দেবী দুর্গার অন্য এক রূপ হলো ‘জগদ্ধাত্রী’ (Jagadhatri), যিনি জগতকে ধারণ করে আছেন। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে এই দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করা হয়। ২০২৬ সালে জগদ্ধাত্রী পূজা পালিত হবে ১৮ই ও ১৯শে নভেম্বর। এই পূজা মূলত পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগর, কৃষ্ণনগর এবং ঋষড়া অঞ্চলে অত্যন্ত ধুমধাম করে পালিত হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবতাদের দর্প চূর্ণ করতে দেবী জগদ্ধাত্রী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি সিংহবাহিনী এবং চতুর্ভুজা। জগদ্ধাত্রী পূজা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমস্ত শক্তির উৎস হলো মহাশক্তি দেবী চণ্ডী।
২০২৬ সালের জগদ্ধাত্রী পূজার সঠিক সময়সূচী ও নবমী তিথি (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট তিথিতে চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরে বিশাল বিশাল প্রতিমা গড়ে আলোকসজ্জার মাধ্যমে উৎসব উদযাপন করা হয়।
জগদ্ধাত্রী পূজার নাম শুনলেই চন্দননগরের আলোকসজ্জা (Lighting) এবং বড় বড় প্রতিমার কথা মাথায় আসে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমল থেকেই কৃষ্ণনগরে এই পূজার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। এই পূজায় মূলত সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী—এই তিন দিনের পূজা একদিনেই (নবমীর দিন) সম্পন্ন করার রীতি অনেক জায়গায় রয়েছে। আলোকসজ্জার বিচারে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজা বিশ্ববিখ্যাত। রাস্তার দু’ধারে অসাধারণ সব থিম ও আলোর কারুকার্য দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে।
দেবী জগদ্ধাত্রী আমাদের ধৈর্য ও স্থিতিশীলতার শিক্ষা দেন। তাঁর পায়ের নিচে হাতির রূপধারী অসুর ‘করিশুর’ হলো মানুষের মদমত্ততা বা অহংকারের প্রতীক। জগদ্ধাত্রী পূজা আমাদের অন্তরের সেই অহংকারকে জয় করে শান্তির পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়। এই উৎসব বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।