১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার)
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মর্ত্যে আবির্ভাব ঘটেছিল। এই পবিত্র দিনটিকে ‘জন্মাষ্টমী’ (Janmastami) বা ‘কৃষ্ণজন্মাষ্টমী’ হিসেবে পালন করা হয়। ২০২৬ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ঠা সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব। অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে ধর্ম স্থাপনের জন্য ভগবান বিষ্ণু শ্রীকৃষ্ণ রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মথুরার কারাগারে কংসের বন্দিশালায় তাঁর জন্ম হয় এবং পরবর্তীতে গোকুলে তিনি লালিত-পালিত হন।
২০২৬ সালের শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর সঠিক সময়সূচী ও তিথি (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই শুভ তিথিতে ভক্তরা দিনভর উপবাস থেকে মধ্যরাতে কৃষ্ণের আরাধনা করেন।
জন্মাষ্টমীর দিন সকালে স্নান সেরে গোপাল মূর্তিকে দুধ, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। এরপর নতুন পোশাকে দেবতাকে সাজিয়ে দোলনায় বসানো হয়। ভক্তরা সারাদিন নির্জলা বা ফলমূল খেয়ে উপবাস পালন করেন। মধ্যরাতে অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে বিশেষভাবে পূজা ও আরতি করা হয়। এই দিন কৃষ্ণের প্রিয় মাখন, মিছরি এবং ৫৬ রকমের ভোগ বা ‘ছাপ্পান্ন ভোগ’ নিবেদন করা হয়। অনেক স্থানে ‘দহি হান্ডি’ (Dahi Handi) উৎসবের মাধ্যমে কৃষ্ণের বাল্যলীলা স্মরণ করা হয়।
শ্রীমদ্ভাগবত গীতা অনুযায়ী, যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং অধর্মের উত্থান হয়, তখনই ভগবান নিজেকে প্রকাশ করেন। জন্মাষ্টমী আমাদের শেখায় যে সত্যের জয় অনিবার্য। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন আমাদের কর্মফল এবং নিষ্কাম ভক্তির পথ দেখায়। এই উৎসবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ মেতে ওঠে, যা সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।