৪ শ্রাবণ ১৪৩২
২১ জুলাই ২০২৫ (সোমবার)
শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে ‘কামিকা একাদশী’ (Kamika Ekadashi) বলা হয়। হিন্দু ধর্মমতে, চাতুর্মাস চলাকালীন এই একাদশী ব্রত পালন করা অত্যন্ত ফলদায়ক। ২০২৬ সালে কামিকা একাদশী পালিত হবে ৯ই আগস্ট, রবিবার। এই ব্রত পালন করলে বাজপেয় যজ্ঞের সমান পুণ্য লাভ হয় এবং পূর্বপুরুষদের আত্মা শান্তি পায়। ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার জন্য এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে ভক্তিভরে পূজা করলে জীবনের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়, জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে করা সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং মানুষ মোক্ষ লাভ করে।
২০২৬ সালের কামিকা একাদশী পালনের সঠিক সময়সূচী ও পারণ সময় (Bengali Calendar ১৪৩২) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট পারণ সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা শাস্ত্রীয় বিধান। হরি বাসর চলাকালীন ব্রত ভাঙা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কামিকা একাদশীর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে ভগবান শ্রীহরির পূজা করতে হয়। এই দিন ভগবান বিষ্ণুকে পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি) দিয়ে স্নান করানো অত্যন্ত শুভ। পূজায় তুলসী পাতার ব্যবহার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কথিত আছে যে, একাদশীর দিন বিষ্ণুকে একটি তুলসী মঞ্জরী অর্পণ করলে সারাজীবনের পাপ ধুয়ে যায়। ব্রতীরা এই দিন ফলমূল খেয়ে উপবাস পালন করেন অথবা নির্জলা উপবাস করেন। সারাদিন ও রাত বিষ্ণু মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র বা 'ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়' জপ করা উচিত। পরদিন দ্বাদশীর সকালে নির্দিষ্ট সময়ে পারণ (Parana) করে ব্রত সম্পন্ন করতে হয়।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে এই একাদশীর মহিমা শুনিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, যারা কামিকা একাদশী পালন করে, তারা গঙ্গা, কাশী, নৈমিষারণ্য বা পুষ্কর তীর্থে স্নান করার সমান পুণ্য লাভ করে। প্রাচীনকালে এক জমিদার রাগের বশবর্তী হয়ে এক ব্রাহ্মণকে হত্যা করেছিলেন। পরে ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এক মুনি তাঁকে কামিকা একাদশী ব্রত পালনের পরামর্শ দেন। ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করার ফলে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তাঁকে দর্শন দেন এবং পাপমুক্ত করেন।