৩০ কার্তিক ১৪৩৩
১৭ নভেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার)
বাংলার লোকসংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মে ‘কার্তিক পূজা’ (Kartik Puja) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় উৎসব। দেব সেনাপতি কার্তিক হলেন বীরত্ব ও সৌন্দর্যের প্রতীক। কার্তিক মাসের শেষ দিন অর্থাৎ কার্তিক সংক্রান্তির রাতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালে কার্তিক পূজা পালিত হবে ১৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নিঃসন্তান দম্পতিরা সুসন্তান লাভের আশায় কার্তিক ঠাকুরের আরাধনা করেন। এছাড়া শৌর্য-বীর্য লাভের কামনায় এবং ঘর থেকে নেতিবাচকতা দূর করতেও কার্তিক পূজা করা হয়।
২০২৬ সালের কার্তিক পূজার সঠিক সময়সূচী (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই দিন গভীর রাতে কার্তিক ঠাকুরের পূজা করা হয় এবং অনেক জায়গায় ‘কার্তিক লড়াই’ বা আলোকসজ্জার শোভাযাত্রা দেখা যায়।
কার্তিক পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় মজার সব আচার প্রচলিত আছে। বিশেষ করে চুঁচুড়া ও কাটোয়া অঞ্চলে কার্তিক পূজা অত্যন্ত ধুমধাম করে পালিত হয়। অনেক সময় নিঃসন্তান বন্ধুর বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুরের প্রতিমা রেখে আসার এক আনন্দদায়ক রীতি রয়েছে। কার্তিক ঠাকুরকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো হয়, তাঁর হাতে থাকে ধনুক এবং তিনি ময়ূরের ওপর আসীন থাকেন। এই পূজার মাধ্যমে ঘরে বীরত্ব ও সুশৃঙ্খল জীবনের আশীর্বাদ নেমে আসে বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন।
কার্তিক হলেন দেবতাদের সেনাপতি এবং শিব-পার্বতীর পুত্র। তিনি তারকাসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেছিলেন। তাই কার্তিক পূজা আমাদের জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করার সাহস ও শক্তি প্রদান করে। এটি তারুণ্য ও অপরাজিত থাকার প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা জীবনের নতুন উদ্যম ও প্রাণশক্তি ফিরে পাই।