২০২৬ সালের উৎসব পঞ্জিকা

মনসা পূজা ২০২৬ - Manasa Puja 2026

আর মাত্র ৫৮ দিন বাকি!

১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

৩ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার)

তারিখ ও পঞ্জিকার বিবরণ

নাগ পঞ্চমী
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
৩ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার)
তিথি: পঞ্চমী - 08:08 PM পর্যন্ত
গঙ্গা পূজা, মনসা পূজা (দশহরা)
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২৫ মে ২০২৬ (সোমবার)
তিথি: নবমী - 08:16 AM পর্যন্ত
বিশ্বকর্মা পূজা, মনসা পূজা (অরান্ধন)
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
তিথি: ষষ্ঠী - 10:11 AM পর্যন্ত

মনসা পূজা ২০২৬ এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য (Significance of Manasa Puja)

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবী মনসা হলেন সর্পের দেবী এবং বিষহরি। তিনি শিবের মানসকন্যা এবং নাগরাজ বাসুকির ভগিনী। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দেবী মনসার পূজা অত্যন্ত ভক্তিভরে করা হয়, বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায়। ২০২৬ সালে মনসা পূজার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো শ্রাবণ সংক্রান্তির ‘ঝাপান’ এবং ভাদ্র সংক্রান্তির ‘রান্না পূজা’। বিশ্বাস করা হয় যে, দেবী মনসা তুষ্ট থাকলে কালসর্প দোষ খণ্ডন হয় এবং ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।

মনসা পূজা ২০২৬ এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (Important Dates)

২০২৬ সালে মনসা পূজার প্রধান চারটি মাহেন্দ্রক্ষণ নিচে দেওয়া হলো (Bengali Calendar ১৪৩৩):

  • মনসা পূজা (দশহরা): ২৫ মে ২০২৬, সোমবার। (জ্যৈষ্ঠ শুক্লা দশমী)
  • মনসা পূজা (ঝাপান): ১৭ আগস্ট ২০২৬, সোমবার। (শ্রাবণ সংক্রান্তি)
  • নাগ পঞ্চমী: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার। (ভাদ্র শুক্লা পঞ্চমী)
  • রান্না পূজা (অরান্ধন): ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার। (ভাদ্র সংক্রান্তি)

এই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বাংলার ঘরে ঘরে এবং মন্দিরে দেবী মনসার বিশেষ আরাধনা করা হয়।

ঝাপান ও রান্না পূজা উৎসব (Jhapan & Ranna Puja)

বাংলার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমান জেলায় শ্রাবণ সংক্রান্তির দিন ‘ঝাপান’ (Jhapan) উৎসব পালন করা হয়, যেখানে সাপুড়েরা তাঁদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে, ভাদ্র সংক্রান্তির দিন পালিত হয় ‘রান্না পূজা’ বা ‘অরান্ধন’। এই দিন উনুনে রান্না করা নিষিদ্ধ। আগের দিন রান্না করা বাসি খাবার (পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছ) এই দিন দেবী মনসাকে নিবেদন করে সবাই মিলে গ্রহণ করেন। এটি বাংলার এক প্রাচীন ও জনপ্রিয় পারিবারিক উৎসব।

মা মনসার আশীর্বাদ ও লোকবিশ্বাস

মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী অনুসারে, চাঁদ সওদাগরের মতো শক্তিশালী অহংকারী মানুষও শেষে দেবীর কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন। এটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষ সবসময় ক্ষুদ্র। মনসা পূজা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সমস্ত জীবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রেরণা দেয়।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQs)

২০২৬ সালে প্রধান মনসা পূজা কবে?

২০২৬ সালে প্রধান মনসা পূজা (ঝাপান) ১৭ই আগস্ট এবং রান্না পূজা ১৭ই সেপ্টেম্বর পালিত হবে।

রান্না পূজা বা অরান্ধন কেন করা হয়?

ভাদ্র সংক্রান্তির দিন উনুনকে বিশ্রাম দিয়ে দেবী মনসার পূজা করা হয় এবং বাসি খাবার খেয়ে এই উৎসব পালন করা হয় যাতে সাপের ভয় দূর হয়।

মনসা পূজায় কোন গাছের পূজা করা হয়?

মনসা পূজায় সাধারণত সিজ গাছ (Euphorbia neriifolia) বা মনসা গাছের পূজা করা হয়, যাকে দেবীর প্রতীক মানা হয়।

ঝাপান উৎসব কী?

ঝাপান হলো সর্পদেবী মনসার সম্মানে আয়োজিত একটি মেলা ও উৎসব, যেখানে সাপুড়েরা তাঁদের কেরামতি দেখান।