১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
৩ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার)
বাংলার লোকসংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবী মনসা হলেন সর্পের দেবী এবং বিষহরি। তিনি শিবের মানসকন্যা এবং নাগরাজ বাসুকির ভগিনী। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দেবী মনসার পূজা অত্যন্ত ভক্তিভরে করা হয়, বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায়। ২০২৬ সালে মনসা পূজার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো শ্রাবণ সংক্রান্তির ‘ঝাপান’ এবং ভাদ্র সংক্রান্তির ‘রান্না পূজা’। বিশ্বাস করা হয় যে, দেবী মনসা তুষ্ট থাকলে কালসর্প দোষ খণ্ডন হয় এবং ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
২০২৬ সালে মনসা পূজার প্রধান চারটি মাহেন্দ্রক্ষণ নিচে দেওয়া হলো (Bengali Calendar ১৪৩৩):
এই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বাংলার ঘরে ঘরে এবং মন্দিরে দেবী মনসার বিশেষ আরাধনা করা হয়।
বাংলার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমান জেলায় শ্রাবণ সংক্রান্তির দিন ‘ঝাপান’ (Jhapan) উৎসব পালন করা হয়, যেখানে সাপুড়েরা তাঁদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে, ভাদ্র সংক্রান্তির দিন পালিত হয় ‘রান্না পূজা’ বা ‘অরান্ধন’। এই দিন উনুনে রান্না করা নিষিদ্ধ। আগের দিন রান্না করা বাসি খাবার (পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছ) এই দিন দেবী মনসাকে নিবেদন করে সবাই মিলে গ্রহণ করেন। এটি বাংলার এক প্রাচীন ও জনপ্রিয় পারিবারিক উৎসব।
মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী অনুসারে, চাঁদ সওদাগরের মতো শক্তিশালী অহংকারী মানুষও শেষে দেবীর কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন। এটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষ সবসময় ক্ষুদ্র। মনসা পূজা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সমস্ত জীবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রেরণা দেয়।