৫ আশ্বিন ১৪৩৩
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার)
ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীকে ‘পার্শ্ব একাদশী’ (Parsva Ekadashi) বা ‘পরিবর্তিনী একাদশী’ বলা হয়। হিন্দু ধর্মমতে, চাতুর্মাস চলাকালীন ভগবান বিষ্ণু যখন যোগনিদ্রায় মগ্ন থাকেন, তখন এই দিনে তিনি শয্যায় একপাশ থেকে অন্যপাশে পরিবর্তন করেন (Parsva Parivartan)। সেই কারণেই একে পার্শ্ব একাদশী বলা হয়। ২০২৬ সালে পার্শ্ব একাদশী পালিত হবে ২২শে সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। এই ব্রত পালন করলে বাজপেয় যজ্ঞের সমান পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়ে সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
২০২৬ সালের পার্শ্ব একাদশী পালনের সঠিক সময়সূচী ও পারণ সময় (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট পারণ সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা শাস্ত্রীয় বিধি।
পার্শ্ব একাদশীর দিন সকালে স্নান সেরে ভগবান বামন অবতারের পূজা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ এই দিনে শ্রী বিষ্ণু বামন রূপ ধারণ করেছিলেন। ভগবানকে হলুদ ফুল, চন্দন এবং তুলসী অর্পণ করা হয়। দিনভর উপবাস থেকে পরদিন দ্বাদশীর সকালে নির্দিষ্ট সময়ে পারণ (Parana) করে ব্রত সম্পন্ন করতে হয়। এই দিন অন্ন গ্রহণ নিষিদ্ধ। অনেকে এই দিন দান-ধ্যান করেন, যা অক্ষয় পুণ্য লাভের সহায়ক হয়। রাত্রি জাগরণ করে বিষ্ণু সহস্রনাম বা ভগবদ গীতা পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই একাদশী পালন করলে মানুষ সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পায় এবং বৈকুণ্ঠ ধামে স্থান লাভ করে। ভগবান বিষ্ণু তাঁর যোগনিদ্রার সময় একপাশ পরিবর্তন করে আমাদের এই বার্তা দেন যে, জীবনে পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুব সত্য এবং ধর্মের পথে চলাই আমাদের পরম লক্ষ্য। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির এক বিশেষ সুযোগ প্রদান করে।