১২ আষাঢ় ১৪৩২
২৭ জুন ২০২৫ (শুক্রবার)
অনেকেই জানতে চান, রথযাত্রা ২০২৬ কবে? হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, রথযাত্রা ২০২৬ (Rath Yatra 2026) পালিত হবে ১৬ই জুলাই, বৃহস্পতিবার। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এটি ভগবান জগন্নাথ (বিষ্ণু বা কৃষ্ণের অবতার), তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলভদ্র এবং ভগিনী সুভদ্রার প্রধান মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে যাওয়ার এক পবিত্র ও ঐতিহ্যবাহী যাত্রা। রথযাত্রা শুধু ওড়িশার পুরীতে নয়, বরং গোটা বাংলা এবং সারা বিশ্বেই অত্যন্ত ভক্তি ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়।
রথযাত্রা ২০২৬-এর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট এবং উল্টো রথের সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো:
পুরীর রথযাত্রার মূল আচার-অনুষ্ঠান ১৬ই জুলাই সকালেই সম্পন্ন হয়ে যায় এবং তারপরেই শুরু হয় রশি টানার মহামহোৎসব।
রথযাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তিনটি সুবিশাল কাঠের রথ, যা প্রতি বছর নতুন করে নির্মাণ করা হয়। ভগবান জগন্নাথের রথের নাম ‘নন্দীঘোষ’ (Nandighosha), যা ৪৫ ফুট উঁচু এবং এতে ১৬টি চাকা থাকে। বলরামের রথের নাম ‘তালধ্বজ’ (Taladhwaja) এবং দেবী সুভদ্রার রথের নাম ‘দর্পদলন’ (Darpadalana)।
রথ টানার ঠিক আগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রীতিনীতি পালিত হয়, যাকে বলা হয় 'ছেরা পঁহরা' (Chhera Panhara)। পুরীর রাজা সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করেন। এটি প্রমাণ করে যে ভগবানের কাছে রাজা ও প্রজা সবাই সমান। এরপর লক্ষ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে রশি টেনে রথ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, রথের রশি একবার টানতে পারলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং মোক্ষ লাভ হয়।
গুন্ডিচা মন্দিরে পৌঁছানোর পর জগন্নাথ দেব সেখানে সাত দিন অবস্থান করেন, যাকে 'আডপ মণ্ডপ' বলা হয়। উল্টো রথের দিন (Bahuda Yatra) নিজ মন্দিরে ফেরার পর দেবতাদের রথের উপরেই 'সোনা বেশ' (Suna Besha) পরানো হয় এবং তাঁদের একটি বিশেষ পানীয় নিবেদন করা হয়, যা 'আধার পণা' (Adhara Pana) নামে পরিচিত।
পুরীর পাশাপাশি বাংলাতেও রথযাত্রা ২০২৬ অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালিত হবে। শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা (যাকে বাংলার প্রাচীনতম রথ বলা হয়) এবং মায়াপুরের ইসকন (ISKCON) মন্দিরের রথযাত্রা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই উপলক্ষে প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে মেলার আয়োজন করা হয়। জিলিপি, পাঁপড় ভাজা খাওয়া এবং ছোটদের কাঠের রথ টানা বাঙালির এক চিরন্তন ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ।