৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার)
জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার ঠিক আট দিন পর অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রত্যাবর্তন যাত্রা, যা হিন্দু ধর্মে উল্টো রথ (Ulto Rath) বা বহুদা যাত্রা (Bahuda Yatra) নামে পরিচিত। সনাতন ধর্মের অন্যতম বৃহৎ এই উৎসব ঘিরে ওড়িশার পুরী থেকে শুরু করে বাংলার মাহেশ এবং মায়াপুরে প্রবল উৎসাহ দেখা যায়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, উল্টো রথ ২০২৬ (Ulto Rath 2026) পালিত হবে আগামী ২৪শে জুলাই (শুক্রবার)। এই শুভ দিনে ভগবান জগন্নাথ, দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুন্ডিচা মন্দির থেকে পুনরায় নিজ মন্দিরে (শ্রীমন্দিরে) ফিরে আসেন।
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, রথযাত্রার দিন জগন্নাথ দেব তাঁর মাসি গুন্ডিচার আমন্ত্রণে গুন্ডিচা মন্দিরে যান এবং সেখানে সাত দিন অবস্থান করেন। অষ্টম দিনে তিনি আবার নিজের আবাসস্থল শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন। এই ফেরার যাত্রাকেই বলা হয় বহুদা যাত্রা বা উল্টো রথ। বিশ্বাস করা হয়, বহুদা যাত্রার সময় ভগবান জগন্নাথের দর্শন পেলে মানুষের সমস্ত পাপ মোচন হয় এবং অনন্ত পুণ্য লাভ হয়। এই দিন ভক্তরা ভগবানের আশীর্বাদ লাভের আশায় পথে ভিড় জমান এবং রথের দড়ি টানার সুযোগ পেলে নিজেদের ধন্য মনে করেন।
উল্টো রথের দিন জগন্নাথ দেব যখন শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন, তখন রথের উপরেই দেবতাদের স্বর্ণালংকারে সজ্জিত করা হয়। এই বিশেষ সাজকে সোনা বেশ (Suna Besha) বলা হয়। এরপর রথের উপরেই দেবতাদের একটি বিশেষ মিষ্টি পানীয় নিবেদন করা হয়, যা অধরা পানা (Adhara Pana) নামে পরিচিত। এই পানা মাটির বড় কলসিতে করে নিবেদন করা হয় এবং পরে কলসিটি ভেঙে ফেলা হয় যাতে সেই পানীয় ভূত-প্রেত এবং আত্মারা গ্রহণ করতে পারে। এই রীতিনীতিগুলি বহুদা যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উল্টো রথের মাধ্যমে শ্রীমন্দিরে ফেরার পর ভগবান জগন্নাথকে আরও একটি পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। রথযাত্রার সময় স্ত্রী মহালক্ষ্মীকে সঙ্গে না নেওয়ায় তিনি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত থাকেন। তাই জগন্নাথ দেব যখন মন্দিরে প্রবেশ করতে যান, তখন দেবী লক্ষ্মী মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেন। তখন মহালক্ষ্মীর মান ভাঙানোর জন্য জগন্নাথ দেব তাঁকে সুস্বাদু রসগোল্লা উপহার দেন। এই মিষ্টি পেয়ে দেবী শান্ত হন এবং জগন্নাথ দেব মন্দিরে প্রবেশ করেন। এই ঘটনাটিকে স্মরণ করে উল্টো রথের পর নীলাদ্রি বিজে (Niladri Bije) উৎসব পালিত হয়, এবং এই দিনই প্রথাগতভাবে রসগোল্লা নিবেদন করা হয়।