১৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩
৪ ডিসেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার)
অগ্রহায়ণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে ‘উৎপন্না একাদশী’ (Utpanna Ekadashi) বলা হয়। হিন্দু ধর্মমতে, এই দিনেই একাদশী দেবীর উৎপত্তি হয়েছিল, তাই এর নাম ‘উৎপন্না’। ২০২৬ সালে উৎপন্না একাদশী পালিত হবে ৪ঠা ডিসেম্বর, শুক্রবার। যারা একাদশী ব্রত পালনের সংকল্প নিতে চান, তাঁদের জন্য এই একাদশী থেকে ব্রত শুরু করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপের বিনাশ হয় এবং বৈকুণ্ঠ ধামে স্থান লাভ হয়। এটি আধ্যাত্মিক শুদ্ধিকরণ ও ভক্তির এক অনন্য তিথি।
২০২৬ সালের উৎপন্না একাদশীর সঠিক সময়সূচী ও পারণ সময় (Bengali Calendar ১৪৩৩) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট পারণ সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা শাস্ত্রীয় বিধান।
পৌরাণিক কথা অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু যখন ‘মুর’ নামক এক অসুরের সাথে যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রামে ছিলেন, তখন তাঁর শরীর থেকে এক তেজস্বিনী দেবী আবির্ভূত হন এবং তিনি সেই অসুরকে বধ করেন। ভগবান বিষ্ণু সন্তুষ্ট হয়ে সেই দেবীর নাম রাখেন ‘একাদশী’। যেহেতু এই দিন তাঁর উৎপত্তি বা উদ্ভব হয়েছিল, তাই একে ‘উৎপন্না একাদশী’ বলা হয়। এই দিন থেকেই সারা বিশ্বে একাদশী ব্রত পালনের রীতি শুরু হয়েছিল। একাদশী দেবী স্বয়ং বিষ্ণুর শক্তিরই এক প্রতিরূপ।
উৎপন্না একাদশীর দিন ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করতে হয়। এই দিন দান-ধ্যান করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ব্রতীরা দিনভর উপবাস থেকে পরদিন দ্বাদশীর সকালে নির্দিষ্ট সময়ে পারণ (Parana) করে ব্রত সম্পন্ন করেন। এই দিন অন্ন বা শস্য জাতীয় খাবার গ্রহণ নিষিদ্ধ। ভক্তিভরে রাত্রি জাগরণ করে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।