৬ আষাঢ় ১৪৩২
২১ জুন ২০২৫ (শনিবার)
আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে ‘যোগিনী একাদশী’ (Yogini Ekadashi) বলা হয়। হিন্দু ধর্মমতে, এই একাদশী ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। বিশেষ করে কুষ্ঠ রোগ বা চর্মরোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং জীবনের সুখ-শান্তি বজায় রাখতে এই ব্রতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ২০২৬ সালে যোগিনী একাদশী পালিত হবে ১০ই জুলাই, শুক্রবার। পুরাণ অনুসারে, অলকাপুরীর রাজা কুবেরের মালী হেম তাঁর পত্নীর মোহে পড়ে শিবের পূজার ফুল আনতে ভুলে গিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি অভিশপ্ত হন। পরবর্তীতে যোগিনী একাদশী পালনের মাধ্যমেই তিনি অভিশাপমুক্ত হয়েছিলেন।
২০২৬ সালের যোগিনী একাদশী পালনের সঠিক সময়সূচী ও পারণ সময় (Bengali Calendar ১৪৩২) নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্দিষ্ট পারণ সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ করা বা অন্ন গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।
যোগিনী একাদশী ব্রত পালনের জন্য দশমীর রাত থেকেই সংযম পালন করতে হয়। একাদশীর দিন ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে ভগবান নারায়ণের পূজা করা হয়। এই দিন তুলসী পাতা, ফল এবং ফুল দিয়ে শ্রী বিষ্ণুর আরাধনা করা অত্যন্ত শুভ। দিনভর নির্জলা বা ফলমূল খেয়ে উপবাস পালন করার পর দ্বাদশীর দিন নির্দিষ্ট সময়ে পারণ (Parana) করে ব্রত সম্পন্ন করতে হয়। এই দিন অন্ন গ্রহণ নিষিদ্ধ এবং হরিনাম সংকীর্তন করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।
পদ্ম পুরাণ অনুযায়ী, যোগিনী একাদশী ব্রত পালন করলে ৮৮ হাজার ব্রাহ্মণকে ভোজন করালে যে পুণ্য লাভ হয়, সেই একই ফল পাওয়া যায়। এটি শুধুমাত্র চর্মরোগ থেকেই মুক্তি দেয় না, বরং মানুষের জীবনের সমস্ত জাগতিক ও আধ্যাত্মিক বাধা দূর করে শান্তির পথ প্রশস্ত করে।